বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম ২০২৫: ধাপে ধাপে সহজ গাইড (দালাল ছাড়া)


 # বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট আবেদন: ধাপে ধাপে সহজ গাইড (দালাল ছাড়া)


বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট আবেদন করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে, বিশেষ করে অনলাইন সিস্টেমের কারণে। আপনি যদি বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করতে চান বা রিনিউ করতে চান, তাহলে দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে সবকিছু করতে পারবেন। এই ব্লগে আমি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করব কীভাবে আবেদন করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত দিন লাগতে পারে এবং বিভিন্ন স্ট্যাটাসের অর্থ কী। সব তথ্য অফিসিয়াল সোর্স থেকে নেয়া, যাতে আপনি নিরাপদে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। চলুন শুরু করি!


## প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: কী কী লাগবে?

ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ডকুমেন্টস। এগুলো ছাড়া আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান হতে পারে। নিচে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য লিস্ট দেয়া হলো:


- **সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য (১৮ বছরের উপরে):**

  - জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট (BRC)। NID না থাকলে BRC অবশ্যই ভেরিফাইযোগ্য হতে হবে।

  - অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সামারির প্রিন্ট কপি (বারকোড সহ)।

  - ফি পেমেন্টের রিসিপ্ট (অনলাইন বা ব্যাংক থেকে)।

  - পুরনো পাসপোর্ট (যদি রিনিউয়াল হয়)।

  - সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ কপি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, ৪৫x৩৫ মিমি) – তবে অফিসে বায়োমেট্রিক নেয়া হয়, তাই ছবি সবসময় লাগে না।

  - অন্যান্য: যদি চাকরিজীবী হন, তাহলে NOC (No Objection Certificate) লাগতে পারে।


- **শিশুদের জন্য (১৮ বছরের নিচে):**

  - পিতা-মাতার NID বা BRC।

  - শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট।

  - পিতা-মাতার সম্মতিপত্র (ফর্মে সাইন)।

  - অনলাইন সামারির প্রিন্ট এবং ফি রিসিপ্ট।


- **অন্যান্য ক্যাটাগরি (যেমন সরকারি কর্মকর্তা বা বিদেশে থাকা):**

  - অতিরিক্ত ডকুমেন্টস যেমন অফিস আইডি, ভিসা হিস্ট্রি ইত্যাদি লাগতে পারে। বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল সাইট চেক করুন।


সব ডকুমেন্টস অরিজিনাল এবং ফটোকপি নিয়ে যান। অফিসিয়াল সাইট থেকে নিশ্চিত করুন যাতে কোনো পরিবর্তন না হয়ে থাকে।

## অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপ ১ – অনলাইনে ফর্ম ফিল আপ

দালাল ছাড়া আবেদন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অনলাইন। এখানে ধাপে ধাপে:


1. **সাইটে যান:** https://www.epassport.gov.bd/ এ যান এবং "Apply Online" ক্লিক করুন।

2. **ফর্ম ফিল আপ করুন:** অনলাইনে আবেদনের সময় রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার NID অথবা 17-ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট (BRC) এর নম্বর দিন – যেকোনো একটা যথেষ্ট। ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি পূরণ করুন। নতুন পাসপোর্ট না রিনিউ – সিলেক্ট করুন।

3. **ফি পে করুন:** সাধারণ ফি ৪০০০-৫০০০ টাকা (৪৮ পেজ, ৫ বছরের জন্য), উর্জেন্ট ৭০০০-১০০০০ টাকা। অনলাইন ব্যাংকিং, কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে পে করুন।

4. **সামারি প্রিন্ট করুন:** ফর্ম সাবমিট করলে একটা PDF পাবেন – প্রিন্ট করুন। এতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেট থাকবে (যদি অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু থাকে)।

5. **অ্যাপ্লিকেশন আইডি নোট করুন:** স্ট্যাটাস চেকের জন্য লাগবে।


এই ধাপে কোনো দালাল লাগবে না – নিজের কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে করুন।

## পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া: ধাপ ২ – এনরোলমেন্ট

অনলাইন সাবমিটের পর অফিসে যান:


1. **অ্যাপয়েন্টমেন্ট ডেটে যান:** নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে (যেমন ঢাকার আগারগাঁও)। সকালে যান যাতে লাইন কম থাকে।

2. **ডকুমেন্টস জমা দিন:** কাউন্টারে সামারি, ডকুমেন্টস এবং রিসিপ্ট দেখান।

3. **বায়োমেট্রিক নিন:** ফিঙ্গারপ্রিন্ট, আইরিস স্ক্যান এবং ছবি নেয়া হবে।

4. **পুলিশ ভেরিফিকেশন:** অফিস থেকে পুলিশকে জানানো হবে – তারা আপনার ঠিকানায় চেক করবে।


এখানে ধৈর্য ধরুন, কারণ লাইন থাকতে পারে। দালালরা এখানে টাকা নেয়, কিন্তু নিজে করলে ফ্রি।


## প্রসেসিং টাইম: কত দিন লাগবে?

পাসপোর্ট পাওয়ার সময় নির্ভর করে টাইপের উপর:


- **সাধারণ (Regular):** ১৫-২১ দিন।

- **উর্জেন্ট (Express):** ৭-১০ দিন।

- **সুপার উর্জেন্ট:** ২-৩ দিন।


বাস্তবে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে ১-২ মাস লাগতে পারে। ঢাকায় দ্রুত হয়, গ্রামে বেশি সময় লাগে। অফিসিয়াল সাইটে স্ট্যাটাস চেক করে দেখুন।


## অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাসের অর্থ: কী কী হয়?

আপনার আবেদনের অগ্রগতি চেক করতে https://www.epassport.gov.bd/ এ "Check Status" ক্লিক করুন। নিচে সাধারণ স্ট্যাটাসগুলোর ব্যাখ্যা:


- **Application Submitted:** আপনার অনলাইন ফর্ম সাবমিট হয়েছে। এখন অফিসে যান।

- **Enrollment in Process:** অফিসে বায়োমেট্রিক নেয়া হচ্ছে বা প্রসেসিং শুরু।

- **Police Verification:** পুলিশ আপনার তথ্য চেক করছে। এতে ৭-১৪ দিন লাগতে পারে।

- **Printing:** পাসপোর্ট প্রিন্ট হচ্ছে।

- **Shipped:** পাসপোর্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে।

- **Ready for Issuance:** পাসপোর্ট তৈরি, অফিস থেকে কালেক্ট করুন।


যদি কোনো সমস্যা হয়, স্ট্যাটাসে "Pending" বা "Rejected" দেখাবে – তাহলে অফিসে যোগাযোগ করুন।

## অতিরিক্ত টিপস: সফলতার জন্য

- সকাল সকাল অফিসে যান এবং সব ডকুমেন্টস চেক করুন।

- অনলাইন পেমেন্ট করুন যাতে সময় বাঁচে।

- যদি বিদেশে থাকেন, দূতাবাসে আবেদন করুন।

- কোনো দালালকে টাকা দেবেন না – অফিসিয়াল প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

- আপডেটের জন্য অফিসিয়াল সাইট চেক করুন।


এই গাইড অনুসরণ করলে আপনি সহজেই ই-পাসপোর্ট পাবেন। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন! ভ্রমণের শুভকামনা।

إرسال تعليق

أحدث أقدم